12 16 17

শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (শীতকাল) | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

Home - দিনাজপুর - বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত

বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত

সোহেল সানী, পার্বতীপুর থেকেঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরনের আশ্বাসের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি স্থগিত করেছে শ্রমিকরা। গত মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খনি ভূ-গর্ভের ১ হাজার ৪০০ ফুট নিচে অবস্থানকারী কর্মবিরতিতে থাকা ২৮৫ শ্রমিককে উপরে নিয়ে আসা হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আজ বুধবার (১১ জানুয়ারি) খনি কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ ৫০ জন শ্রমিককে ঢাকা নিয়ে যাবে। সেখানে চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

বৈঠকে শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে দিনাজপুর জেলা শ্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) মো.আমিনুজ্জামানসহ খনি কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়।

কয়লা খনির সভাকক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর মো. খায়রুল আলমের নেতৃত্বে পেট্রোবাংলা, খনি কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, জেলা পুলিশ সুপার হামিদুল হক, পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) মো.আমিনুজ্জামান, খনির এমডি এসএম নুরল আওরঙ্গজেব, কোল মাইন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মহাব্যবস্থাপক (ডিএলও/ কোম্পানি সচিব) আবুল কাসেম প্রধানীয়া, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরফদার মাহমুদুর রহমান, পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মে, শ্রমিকের পক্ষে ছিলেন- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, শ্রমিক সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক এহসানুল হক সোহাগ, অর্থ সম্পাদক মোরসালিনসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

দীর্ঘ আন্দোলনের পরও শ্রমিকদের চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীর ব্যাপারে খনি কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ৮ জানুয়ারী থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত ১ হাজার ৪১ জন শ্রমিক অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। তাদের দৈনিক মজুরি দেওয়া হয় সারফেজে ২৯৭ টাকা এবং ভূ-গর্ভে ৩৫০ টাকা মাত্র। মাসে একজন শ্রমিক ১৮-২০ দিনের বেশি কাজ করতে পারেন না। ফলে মাস শেষে তাদের বেতন দেওয়া হয় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। খনির বর্তমান এমএন্ডপি চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি’র সঙ্গে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে চুক্তি শেষ হবে। ইতোমধ্যে খনি কর্তৃপক্ষ এমএন্ডপি ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

২০১১ সালে খনি কর্তৃপক্ষ বলেছিল খনির এমএন্ডপি ঠিকাদারের সঙ্গে পরবর্তী চুক্তির সময় শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত কয়েক মাস ধরে বারবার চিঠি দিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানানো হলেও খনি কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম নুরল আওরঙ্গজেব কর্মবিরতি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য