10 23 17

সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) | ২রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী

Home - কৃষি খামার ও উদ্দ্যোক্তা - লালমনিরহাটে বিষমুক্ত লাউ চাষে কৃষকের সাফল্য

লালমনিরহাটে বিষমুক্ত লাউ চাষে কৃষকের সাফল্য

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম হাইব্রিড জাতের হাইগ্রিন জাতের লাউয়ের চাষ করে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। কালীগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের চন্দ্রপুর, গোড়লে মাচায় মাচায় ঝুলছে লাউ আর লাউ। যেদিকে চোখ যায় কেবল লাউয়েরই ছড়াছড়ি। লাউয়ের ভাল ফলন দেখে এ জাতের লাউ চাষে অন্যান্য চাষিদেরও আগ্রহ বেড়েছে। অন্যদিকে স্বল্প জমিতে অধিকহারে লাউয়ের চাষ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাষিরাও।

একেকজন চাষি ন্যূনতম এক হাজার টাকা ব্যয় করে ইতিমধ্যেই ১০ গুণ আয় করেছেন। বিষমুক্ত আবাদের কারণে বাজারে এই লাউয়ের চাহিদাও ভাল। এসব লাউ চাষে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার না করলেও চাষিরা বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করছেন। তাতে লাউগুলো বিষমুক্ত থাকছে। আর ক্রেতাদের কাছে এ লাউ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের বাসিন্দার শেফারুল ইসলাম (২২) প্রায় ৪০শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করেন। তিনি শুরুতে এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন বলে জানান। আরও প্রায় ১লাখ টাকার বিক্রি হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

একই জাতের লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তেতুঁলিয়া গ্রামের বাসিন্দার জামাল মিয়া (৪৫)। তিনি পুকুরের উপরে লাউ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরও বহু টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।তাদের লাউ চাষে সফলতা দেখে অন্যান্য চাষিরাও অনুপ্রাণিত হয়ে হাইব্রিড জাতের লাউয়ের চাষে মগ্ন হয়েছেন। এবং তারাও লাভবান। এ ব্যাপারে পাইকারি বিক্রেতা এমদাদুল হক বলেন, ‘কালীগঞ্জের চাষকৃত লাউয়ে বিষ নেই। তাই ক্রেতারা এসব লাউ কিনতে গরিমসি করছেন না।

এ ব্যাপারে চাষি নুরুল হক বলেন, ‘লাউ চাষ তেমন একটা পরিশ্রমের নয়। ১ শতক জমিতে এক হাজার টাকা খরচ করে ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তবে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে হবে। রোপণ করতে হবে উন্নতজাতের বীজ।’চাষি নুরুল হক আরো বলেন- প্রথমেই জমি তৈরির পর ভাল বীজ রোপণ করতে হবে। নিয়মিত দেখভাল করতে পারলেই লাউয়ের বাম্পার ফলন আশা করা সম্ভব। আর আমিও এ পদ্ধতি গ্রহণ করে বিভিন্ন জাতের লাউ চাষে করে সফল হয়েছি।’লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিদুর ভূষণ রায় বলেন, ‘এ জেলার স্থানে স্থানে নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষকরা সফলতা পাওয়ায় সবজি চাষে মনযোগী হয়েছেন।এ জেলায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের লাউ চাষে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য