আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের পূর্ব বোয়ালী এলাকায় নির্মিত সেতুটি ২০১৪ সালের বন্যায় দেবে যায়। দেবে যাওয়া ওই সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ফুলছড়ি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিনেও সেতুটি সংস্কার না করায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এ পথে চলাচলকারী অনেকে। অথচ জেলা শহরের সঙ্গে সহজে ফুলছড়ি উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সেতুটি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের পূর্ব বোয়ালী এলাকার সেতুটি ২০১৪ সালের বন্যায় মারাÍক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেতুর দক্ষিণ অংশ ভেঙে হেলে পড়ে এবং দেবে যায়। তখন থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাছাড়া সেতুটির দুপাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে। সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচলেও বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে এ পথে ফুলছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব কম হওয়ায় ফুলছড়ি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।

শহর থেকে পণ্য নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু পার হতে হয়। ফুলছড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মানুষ তাদের কৃষিপণ্য বিক্রি করতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। সেতুর ওপর দিয়ে সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের লোকজন বিভিন্ন কাজে ফুলছড়ি উপজেলা সদরে যান। স্থানীয় জনসাধারণ ধসে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে পারলেও ট্রাক, সিএনজি, নছিমন, ভটভটি, করিমন এবং রিক্সা-ভ্যানসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর এতে এ সড়কে চলাচল করা বেশ কয়েকটি এলাকার জনসাধারণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে ওই সড়কে দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান-রিক্সা পার হচ্ছে। নড়বরে ওই সেতুর ওপর দিয়ে ভ্যান-রিক্সা, মোটরসাইকেল নিয়ে লোকজন হেঁটে পার হওয়ার সময় সেতুতে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। হেলে পড়া সেতুতে উঠতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ না নেয়া হলে যে কোনো সময় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সড়কে চলাচলকারী ভ্যানচালক সোবহান আলী বলেন, মালামালসহ পরিবহন নিয়ে সেতুতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জোরে ঝাঁকুনি শুরু হয়। মনে হয় সেতু বুঝি ভেঙে গেল। খুব ভয় লাগে। ফুলছড়ি উপজেলায় কর্মরত ঠিকাদার সোহেল পারভেজ জানান, দুদিন আগে ভ্যান দিয়ে পরিবহনের সময় এ সেতু পার হতে গিয়ে তার ৪০ হাজার টাকার রড-সিমেন্ট পানিতে পড়ে গেছে। ফুলছড়িতে ঠিকাদারি কাজের কোনো মালামালেই নিরাপদে পরিবহন করতে পারছেন না।

মটরসাইকেল চালক নজরুল ইসলাম বলেন, রাতের বেলা অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কের সেতুটি পার হতে হয়। তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণে বিলম্ব হলে সাময়িকভাবে একটি ই¯পাতের বেইলি সেতু স্থাপন করেও চলাচলে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব। বোয়ালী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে ফুলছড়ি উপজেলার অনেক মানুষ জেলা শহরে যাতায়াত করে। অনেক সময় গাইবান্ধা-বালাসী-কালিরবাজার সড়কে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে এই সড়কটি বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেতুটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থাই করছেন না।

এব্যাপারে স্থানীয় সরকারি প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম জানান, ওই স্থানে একটি কালভার্ট পুনঃ নির্মাণের নক্সাসহ ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধান কার্যালয় ডিজাইন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে। এখন সে অনুযায়ী ডিজাইন প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। তা অনুমোদন হলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য