08 24 17

বৃহস্পতিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৭ ইং | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) | ১লা জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

Home - কৃষি খামার ও উদ্দ্যোক্তা - চিরিরবন্দরে‘লতি রাজ’ কচুতে ভাগ্য ফেরালেন মনজের আলী

চিরিরবন্দরে‘লতি রাজ’ কচুতে ভাগ্য ফেরালেন মনজের আলী

অভাবের সংসারে ভাগ্য ফেরালেন লতিরাজ কচু। কচু চাষাবাদ করেস্বাবলম্বী হয়ে বেশ ভালোই আছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সাতনালা গ্রামের জসিনেম্বার পাড়ার মো: মনজের আলী।মৃত বাবার আজগার আলীর ২৫ বছরের পুরোনো এই কচু চাষবাদকে আকরে ধরেই নিজেকে পাল্টে দিয়েছেন মনজের আলী। কচু চাষ তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তাকে দেখে ও পরামর্শ নিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গার অনেকেইকচুর আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।কৃষক মনজের দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে লতিরাজ কচু চাষে বেশ ভালোই দিন কাটাচ্ছেন।

বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার রেখে যাওয়া জমিতে১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মনজের আলীপুনরায় কচু চাষ শুরু করেন। এখন তিনি উপজেলার সফল ‘লতি রাজ’ কচু চাষি। চার বিঘা জমিতে কচুর চাষ করছেন তিনি। মাসিক আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা মনজের আলীর কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে ‘লতি রাজ’ কচুর চাষ করছেন। সম্প্রতি জসিনেম্বার পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মনজের আলী কচু জমি থেকে তুলে বাজারজাত করার জন্য পরিস্কারকরছেন। তিনি জানায় প্রথম দিকে আমি ২৫ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে কচু চাষ শুরু করি ।

শুরুতেই আমি কচু চাষে বেশ লাভবান হলে পরের বছর নিজের ২৫ শতক জমির সাথে অন্যনের সাড়ে তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মোট ৪ বিঘা মাটিতে‘লতি রাজ’ কচুর চাষ শুরু করি । কচু চাষ করতে খুব তেমন বেশী মজুরি খরজ হয় না তিনি বলেন, কচুর চারা রোপনের ২০ দিন পর পর ৬ মাস পর্যন্ত হালকা নিড়ানি দিতে হয় । কচু গাছের যখন তিন মাস বয়স হয় তখন গাছের গড়ায় যে লতি বের হয় তা কেজি প্রতি খুচরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা । ৪ বিঘা জমিতে আমি প্রায় লতি বিক্রি করি ৬০ হাজার টাকা। কচু গাছের ৬ মাস বয়স সর্ম্পুন হলে তা বাজারজাত করার উপযোগী হয়।

এক একর জমিতে কচু গাছ হয় প্রায় ১২ হাজার যার প্রতিটি কচু পাইকারি মূল্য ২০ থেকে ৩০ টাকা হলেমোট কচু বিক্রি হয় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক একরজমিতে কচু চাষেমজুরি খরজ ও যাতায়েত খরজসহ মোট উৎপাদন খরজ হয় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। একর প্রতি কচু চাষে লাভ হয় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মনজেরের বাড়ি থেকে অনেক পাইকাররা কচু নিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ স্থানীয় হাট-বাজারে। তিনি আরো বলেন‘লতিরাজ’ কচুর চাষ করে তিনি কিছু ধানি জমিও কিনেছেন। এ ছাড়া আধাপাকা বসতবাড়ি তৈরি করেছেন।কচু চাষে মনজেরের কাছ থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ নেন এলাকার অনেক কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদমো: মাহমুদুল হাসান জানান, মনজের দারিদ্র্য জয় করেছেন। লেখাপড়া না জানলেও তিনি উপজেলার সবার কাছে অনুকরণীয়। চিরিরবন্দরের অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগী। ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশি কচুর পাশাপাশি আমরা লতিরাজ নামের একটি কচু কৃষকদের আবাদের পরামর্শ দিয়েছি। যার সুফল এখন সংযোজন হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য