দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। যে কারণে ফসল উৎপাদন যে হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, সে হারে ফসল বৃদ্ধি হচ্ছে না। সূত্র জানায় মাটি গঠনের চারটি উপাদান রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ৪৫শতাংশ অজৈব, ২৫ শতাংশ বায়ু, ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ ও ২৫ শতাংশ পানি।

উল্লিখিত উপাদানের মধ্যে জৈব পদার্থই হচ্ছে মাটির প্রাণ। যা জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় কয়েক বছর জৈব সার মাটিতে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র অজৈব সার ব্যবহার করলে জমি তার পানির ধারন ক্ষমতা ও পুষ্টি উপাদান বিনিময় ক্ষমতা হারায়। এ ছাড়া হিউমাসের পরিমান কমে যায়।

ফলে জমির উপকারী জীবানুর পরিমাণ হ্রাস পেয়ে পাথুরে জমিতে পরিণত হয়। যা চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে। জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কম হওয়ার কারণ হিসাবে জানা গেছে জন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের উপাদান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যে হারে ফসল ফালানো হচ্ছে সেই হারে জৈব পদার্থ যোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফসলের অবশিষ্ট অংশ মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে। কিন্তু কৃষিশিক্ষার অভাবে জ¦ালানী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই অঞ্চলের কৃষকেরা জমিতে সুষম সার ব্যবহার করে না। অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের আশায় তারা জমিতে বেশি মাত্রায় নাইট্রোজেন সার (ইউরিয়া) ব্যবহার করছে। এতে অনুজৈবিক কার্যকারিতা বেড়ে যায়। ফলে অনুজীবগুলো জৈব মধ্যস্থিত নাইট্রোজেন খেয়ে ফেলে এবং মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যায়। কৃষি অফিস জানায় প্রতি ৩ বছর পর পর জমিতে সবুজ সার উৎপাদনকারী ফসল রোপন করতে হবে।

ঐ ফসলের অবশিষ্ট অংশ মাটির সংগে মিশিয়ে দিতে হবে। জমির আগাছা চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশাতে হবে। গোবাদি পশুর মলমূত্র সংরক্ষণ ও বিভিন্ন আবর্জনা পচন দিয়ে কম্পোষ্ট সার তৈরি করে তা মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেক চাষিকে মাটি পরীক্ষা করে সার ব্যবহার করতে হবে। ফসলের জন্য যতটুকু চাষ প্রয়োজন ঠিক ততটুকু চাষ দিতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কম হবে তেমনি মাটিতে জৈব পদার্থ বেশী দিন সংরক্ষিত থাকবে। কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামীম বলেন কৃষি জমিকে বাঁচাতে হলে জৈব সারের কোন বিকল্প নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য