09 25 17

সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) | ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

Home - কৃষি খামার ও উদ্দ্যোক্তা - গার্মেন্টস ঝুট থেকে দড়ি বানিয়ে বিক্রি করে স্বাবলম্বী দিনাজপুরের জুয়েল দম্পতি

গার্মেন্টস ঝুট থেকে দড়ি বানিয়ে বিক্রি করে স্বাবলম্বী দিনাজপুরের জুয়েল দম্পতি

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বড় বড় পোশাক কারখানার ফেলে দেওয়া বা পরিত্যাক্ত কাপড় বা ঝুট থেকে সুতা এবং এরপর দড়ি বানিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন মোহাম্মদ জুয়েল দম্পতি। এর সাথে কাজে জড়িয়ে আরও শতাধিক পরিবারের নারীরা এনেছেন সংসারে স্বচ্ছলতা।

ঝুট থেকে সুতা বের করে আবার সুতা দিয়ে দড়ি তৈরী করে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউপির শিবপুর গ্রামের মোহাম্মদ জুয়েল। বগুড়া বা ঢাকা থেকে ঝুট কিনে আনেন জুয়েল। এরপর দড়ি বানানো এ কাজে তাকে সাহায্য করেন তার স্ত্রী খাদিজা বেগম।

২০০৯ সালে প্রথম এ ব্যবসায় যুক্ত হয় জুয়েল। তখন তারা তার স্ত্রীর বোনের বাড়ীতে থাকতেন। এ ব্যবসায় থেকে বর্তমানে পাশেই পৈত্রিক জমিতে টিনশেড সেমি পাকা বাড়ী করেছেন। কিছুদিন আগে ২শতক জায়গাও কিনেছেন। এক মাসে খরচ বাদে কমপক্ষে ২০/২৫হাজার টাকা লাভ হয় তার।

এ ছাড়াও গ্রামের শতাধিক বেকার, অভাবী ও সমাজে অবহেলিত নারীদের ভাগ্যদ্বার খুলে দিয়েছে এ ঝুট কাপড়। তারা সংসারের কাজকর্মের পাশাপাশি সুতা তৈরির মাধ্যমে বাড়তি আয় করছেন। এটা সম্ভব হয়েছে জুয়েলের কারণে। সুতা তৈরির জন্য ঝুট কাপড় সরবরাহ করে জুয়েল এবং কেজী দরে তাদের মজুরী দেয়া হয়।

তার স্ত্রী খাদিজা বেগম জানায়, ওই পরিত্যক্ত কাপড় বা ঝুট থেকে আগে সুতা বের করে ববিনে জড়ো করি। এরপর একাধিক ববিন থেকে সুতা একসঙ্গে নিয়ে দড়ি তৈরী করি। তবে সময় লাগে। এটা কেজী দরে ক্রয় করে আবার কেজী দরেই দড়ি বিক্রি করি। আর এ কাজে এ এলাকার শতাধিক মহিলা মজুরীতে সুতা বের করার কাজ করে। এক কেজী সুতলী বের করতে ৫০টাকা দেওয়া হয়। এতে তাদের সংসারে বাড়তি আয় করছেন তেমনি উভয়ই লাভবান হয়।

মোহাম্মদ জুয়েল জানায়, ২০০৯ সালে প্রথম ১০ হাজার টাকার গামেন্টসের ঝুট নিয়ে আনি। তার পর সুতা বের করে আবার সেই সুতা দিয়ে দড়ি তৈরী করে দিনাজপুর ছাড়াও বগুড়া বা ঢাকায় বিক্রি করি। এখন ৫০/৬০ হাজার টাকার ঝুট আনতে হয়। আর এই ঝুট থেকে বিভিন্ন ধাপে কাজ করে শতাধিক নারী। তাদের কেজী দরে মজুরী দেয়া হয়। এককেজী ঝুট ২৫ টাকা দরে ক্রয় করি। এক কেজী ঝুট থেকে ৮০০/৯০০ গ্রাম দড়ি তৈরী হয়। আবার এক কেজী দড়ি ৮০-৮৫টাকা দরে বিক্রয় করি। বগুড়া কিংবা ঠাকা থেকে বিভিন্ন পার্টি এখানে এসে আমার দড়ি নিয়ে যায়। মাসে কমপক্ষে ২০/২৫হাজার টাকা খরচ বাদে লাভ হয়।

তিনি জানান, এটা লাভজনক ব্যবসা। তবে সরকারী কোন আর্থিক সহযোগিতা পেলে আরও ব্যবসা বড় করা যেত। আরও এলাকার নারীদের আর্থিক উপার্জন হতো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য