11 21 17

মঙ্গলবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) | ২রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - রবিউলের জীবনের মোড় ঘুরে দিল জেলখানা

রবিউলের জীবনের মোড় ঘুরে দিল জেলখানা

জেলখানায় টানা ৪ মাস অবস্থানে জীবনের মোড় ঘুরে গেল রবিউলের। কাঁচের গুটি পুঁথি আর রগের সুতা দিয়ে ব্যাগ,ওয়ালমেট,হাত পাট্র্সসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয়ইজনিস তৈরীতে সে এখন দক্ষ। নিপূণ হাতে তার তৈরী এসব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যে কোন দর্শকের নজর কাড়ে। পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নখারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র রবিউল ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়ে প্রথমবার জেলহাজোতে যায় বিগত ২০১৫ সালে।

সারা জীবনে কখনোই জামায়াত শিবির বা বিএনপির সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক ছিল না তার। এমনকি ওই সংগঠনগুলোর কোন নেতা কর্মিদের সাথে কোন সংশ্রব ছিল না। তার পরেও ভিলেজ পলিটিক্্েরর শিকার হয়ে তাকে জেল হাজোতে যেতে হয়।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক তৃতীয় সারির নেতার সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে নাশকতার মামলায় জড়ানো হয়। কোন প্রকার তদন্ত চাড়াই পুলিশ তার নাম ওই মামলায় জড়িয়ে দেয়। ৩ বছর ধরে যার খেসারত দিতে হচ্ছে তাকে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারীতে ২য় বারের মতো আবারও জেলহাজোতে গেলে সেখানেই সে অন্যান্য কয়েদীদের সাথে এসব হাতের কাজ শেখে। জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে রবিউল কাঁচের গুটি, পুঁথি আর রগের সুতা কিনে নিয়ে এসে দক্ষ হাতে এগুলো তৈরী শুরু করে নিপূণভাবে।

তার তৈরী পণ্যের মধ্যে ক্যান এর ব্যাগ,হাতব্যাগ,পুঁতির ব্যাগ,কলমদানী,ফুলদানী,স্কুৃল ব্যাগ,ওয়ালমেট,হাত পার্ট্স,শো-পীচ উল্লেখযোগ্য। নখারপাড়া সোডাপীর মোড়ে তার মুদী দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখা এসব সামগ্রী দেখতে রোজ প্রচুর ভীড় করছে স্থানীয় লোক।

কিন্তু স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকায় তার তৈরী এসব পণ্য আশানুরুপ বিক্রি হচ্ছে না। বাজারজাতের কোন পদ্ধতী,সুযোগ বা স্থান কিছুই জানা নেই রবিউলের । ১ পুত্র ২ কন্যা এবং মাসহ ৬ সদস্যের সংসার তার। ভালই চলছিল সংসারটি। ভিলেজ পলিটিক্স্রের শিকার হবার পর সবকিছু এলোমেলা হয়ে গেছে। গত ৩ বছরে মামলার ঝামেলায় অভাবের এই সংসারে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

রবিউলের মতে তার তৈরী ওই পণ্যগুলো বাজারজাত করতে পারলে সংসারের অভাব মিটিয়েও স্বাবলম্বী হতে পারতো সে। কেউ কি আছে যে তাকে এ সুযোগ করে দেবে ?

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য