12 16 17

শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (শীতকাল) | ২৭শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

Home - দিনাজপুর - কাহারোলে প্লাস্টিক সামগ্রীর দাপটে বাঁশ শিল্পের বাজারে ধস

কাহারোলে প্লাস্টিক সামগ্রীর দাপটে বাঁশ শিল্পের বাজারে ধস

দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো প্লাস্টিক সামগ্রী সহজ লভ্য ও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব শ্রমিকের মজুরী সহ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত মূল্যের ন্যার্য্য মূল্য না পাওয়ায় বাঁশ শিল্পের বাজারে ধস নেমেছে।
জানা গেছে, এক সময়ে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ছিল বাঁশ শিল্প। এই শিল্পকে কেন্দ্র করে কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠে কুটির শিল্প। আর এই শিল্পের সাথে এখনও জড়িত রয়েছে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার রামচন্দ্রপুর, উচিৎপুর, মহেশপুর সহ বিভিন্ন এলাকার গ্রামে কৃষি সম্প্রদায়ের লোকেরা এই পেশার সাথে জড়িত রয়েছে।

এক সময়ে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাস সম্প্রদায়ের লোকেরা রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনায় বসে বাঁশের চটা দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাংগারী, ডালী, টোপা, মাছ ধরার খোলসানী, মোড়া, মুরগীর খাচা, বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরীর কাজ করত। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও রান্না ঘরে কাজ শেষে এই সব জিনিস তৈরীর কাজে পুরুষদের সহযোগিতা করত। বাঁশের তৈরী এসব জিনিস পত্র গ্রামে গ্রামে ফেরী করেও এলাকার হাট-বাজারে বিক্রি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। বিভিন্ন মেলায় এই সব সামগ্রী পড়সা সাজিয়েও বিক্রি করা হত। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হত পার্শ্ববর্তী উপজেলা সহ জেলা শহর গুলোতে। উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাবু জানান, এক সময় গ্রাম গঞ্জের ঘরে ঘরে বাঁশের তৈরী এসব সামগ্রী খুব কদর ছিল।

এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরী সস্তা দরের রং বে-রঙ্গের নানা জিনিস। বর্তমানে বেশি দামের কারণে বাঁশের তৈরী জিনিস পত্র তেমন আর বিক্রি হয় না। তবে এখনও অনেকেই পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এই ব্যবসা ধরে রেখেছে। সৌখিন মানুষ আছে যারা আজও তাদের এসব জিনিস ক্রয় করতে চায়। দাম বেশি হওয়ায় অনেকে পিছিয়ে যায়। রামচন্দ্রপুরের হরিশ বলেন, এই শিল্প কে ৫০ বছর ধরে পার করেছি। এখনও রোজ সকালে বাঁশের তৈরী নানা ধরনের সামগ্রী তৈরী করে কাধে ঝুলিয়ে গ্রামে গ্রামে হাক-ডাক দিয়ে ফেরী করে বেড়ায়। বর্তমানে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মত এ কাজে তেমন একটা ভালো লাভ হয় না।

বয়স হয়েছে অন্য কাজ করতে পারে না, তাই এই কাজই ধরে আছি। বর্তমানে এলাকায় বাঁশ ঝাড় কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে অনেক। এক সময় প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরী এসব জিনিস পত্রের ব্যবহার ছিল। হাট-বাজারেও বিক্রি হতেও প্রচুর। বর্তমানে হাট-বাজার গুলোতে বাঁশ শিল্পের ধ্বংস নেমেছে। বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরী সস্তা দরের বিভিন্ন জিনিস পত্র এসব পণ্যের স্থান দখল করে নিয়েছে। ফলে প্লাস্টিকের এসব জিনিস পত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে মুখ থুবরে পড়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই কুটির শিল্পটি। ফলে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল অনেকেই বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারপরেও অনেকেই নিরুপায় হয়ে খেয়ে না খেয়ে পূর্ব পুরুষের এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করেন আবহমান গ্রাম বাংলার হাজার বছরের বাঁশ শিল্পের এই ঐতিহ্য কে টিকিয়ে রাখতে বাঁশ উৎপাদনে জনগণকে উৎসাহিত করতে সরকারের পৃষ্ঠপোশকতা প্রয়োজন।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য