11 24 17

শুক্রবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) | ৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে ২ প্রতিবন্ধি

গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে ২ প্রতিবন্ধি

সাধারণত গ্রামগঞ্জে প্রায় দেখা যায়, অনেক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ সামান্যতম অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মিক্ষিন হলে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে সাহায্য বা একেবারে ভিক্ষুক সেজে ভিক্ষাবৃত্তি করছে। অথচ স্বামী স্ত্রী দুজনে প্রতিবন্ধি হওয়ার পরেও ভিক্ষা বা সাহায্যের জন্য কারো কাছে হাত না বাড়িয়ে। গান গেয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বগলাডাঙ্গী গ্রামে বর্তমানে বসবাসরত প্রতিবন্ধি-দ্বয়।

প্রতিবন্ধি স্বামী স্ত্রী দুজন হলেন দৃষ্টি প্রতিবন্দি আসাদুল ইসলাম ও দৃষ্টি ও হাত প্রতিবন্ধি খাদিজা বেগম। গতকাল সোমবার প্রতিবন্ধি স্বামী স্ত্রীর সাথে কথা হয় আমাদের প্রতিবেদকের। স্ত্রী খাদিজাকে পাশে নিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি গায়ক আসাদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে শরিয়তি,মারফতি, মাইজভান্ডারী ও পল্লীগীতি গান গেয়ে জীবন চলে আমার। যেখানে রাত হয় সেখানে রাত্রি যাপন করি।

এমনি ভাবে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থেকে রানীশংকৈলের রাঘবপুর গ্রামে গান গাইতে আসি, এ সময় স্থানীয়রা আমাকে আর ফিরে যেতে দিতে না চাওয়ায় এখানেই থেকে যায়। পরে গ্রামের লোকজন আমাকে ঐ গ্রামের মুক্তার হোসেনের প্রতিবন্ধি কন্যার সাথে বিবাহ দেয়। এরপর হতে আমি বাজারে বাজারে গান গেয়ে উপার্জন করেই স্বামী স্ত্রী মিলে মাথাগুজার ঠাঁই বিহীন অবস্থায় সংসার করছি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রতিবন্ধি আসাদুল গানের সুরে বলেন, ইংলিশে যেমন তেমন বাংলায় মেট্রিক ফেল, বদনা ফাটায় গান গাইতে গাইতে জীবন চলে গেইল। তবে বর্তমান আধুনিক সময়কালে হাতে হাতে মোবাইল, বাজারে বাজারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষজন এখন গান শুনছে তাই আমার এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধির গান আর মানুষ সেভাবে শুনতে চাই না। পাশাপাশি গান শুনে মুগ্ধ হয়ে আগেরমত টাকা পয়সা দেয় না। তাই তিনি এবারে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। তবে এর আগে বাঁধ সাধে মাথা গুজার ঠাঁই নিয়ে গরমের সময় যেখানে সেখানে রাত্রি যাপন করলেও এখন শীতকাল। তাই গত ৯ নভেম্বর উপজেলার বগলাডাঙ্গী বাজারের পাশে মাথা গুজার ঠাঁইয়ের জন্য সামান্যতম জায়গা ঘেরে নিতে চাইলে বাধা দেয় স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে ঐ বাজারে হাজির হন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা। সেখানে গিয়ে ঘর তুলতে বাধাঁ দিয়ে মানবতার সাথে লড়াই করে প্রতিবন্ধি স্বামী স্ত্রীর মাথা গুজার ঠাইঁয়ের জন্য সরকারীভাবে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাদের কে ঘরবাড়ি তৈরি জন্য সহযোগিতার করার প্রতিশ্রুতি দেন। এতে খুশি হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) সোহাগ চন্দ্র সাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রতিবন্ধি স্বামী স্ত্রীসহ স্থানীয়রা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য