10 23 18

মঙ্গলবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

Home - মেইন স্লাইড - ফুল চাষে স্বাবলম্বী কৃষক লিটন

ফুল চাষে স্বাবলম্বী কৃষক লিটন

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল গুলোতেও এখন অর্থকারি ফসল হিসেবে গোলাপ ফুলসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ করা হচ্ছে। সারা বছরের ফসল হিসেবে বেশ লাভজনক হওয়ায় ফুল চাষেই অধিক মাত্রাই ঝুকে পড়ছে কৃষকরা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ছাপড়হাটী ইউনিয়নের রবীন্দ্র নাথের ছেলে কৃষক লিটন গত বছর মাত্র ৬০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন জাতের সাদা, হলুদ, লাল, কাল গোলাপের চাষ শুরু করে।

App DinajpurNews Gif

এক বছরেই অর্থনৈতিক দিক থেকে সে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। ফলে এবছরও সে নতুন করে শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার সংলগ্ন ৬০ শতাংশ জমিতে গোলাপসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রংয়ের গ্লাডিউলাস, গাঁদা ফুল, চন্দ্রমল্লিকা এবং রজনীগন্ধা চাষেও মনযোগী হয়ে পড়েছে। তার এই সাফল্যে ওই গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও এবছর গোলাপ চাষ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, যশোর থেকে গোলাপসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের চারা নিয়ে এসে কৃষক লিটন মিয়া ফুল চাষ শুরু করে।

বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে গোলাপ ফুলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ফুলের ব্যবসাও জমজমাট হয়ে উঠেছে। উপজেলা শহরেই গড়ে উঠেছে ৭টি ফুলের দোকান। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতেও রয়েছে ফুলের দোকান। মূলত: এক সময় যশোর, রংপুর এবং বগুড়া থেকে ফুল কিনে এনে এসব দোকান চালানো হত। কিন্তু সুন্দরগঞ্জের গ্রামাঞ্চলেই ফুলের চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর তাদের বাইরের জেলা থেকে ফুল কিনে আনতে হয় না।

এতে উৎপাদক, কৃষক এবং ফুল বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছে। কৃষক লিটন জানায়, সাধারণত একটি গোলাপ ৩ টাকা দরে বাগান থেকে বিক্রি হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ফুল ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করে থাকে। তবে বিশেষ মৌসুমে যেমন- ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবসে একটি গোলাপ বাগান থেকে বিক্রি হয় ১০ টাকায়। যা দোকানে বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মাটি ফুল চাষে অত্যন্ত উপযোগি হওয়ায় ফুল চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।

এ কারনে অন্য ফসলের পরিবর্তে কৃষকদের মধ্যে গোলাপ ফুল চাষের চাহিদা বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এব্যাপারে ফুল চাষে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে এই উপজেলায় ফুল চাষ করে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বাইরেও রপ্তানী করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য