12 10 18

সোমবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২রা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - ‘নুর হোসেনের জনপ্রিয় চটপটি ও ঝাঁলমুড়ি’

‘নুর হোসেনের জনপ্রিয় চটপটি ও ঝাঁলমুড়ি’

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি”, কথাটি প্রমান করেছেন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী বারাজান এলাকার নুর হোসেন (২৮)।ছোটবেলায় বাবা-মা মারা গেছে। ভাগ্যে জোটেনি তাদের স্নেহ ভালোবাসা।

App DinajpurNews Gif

বাবা- মায়ের মৃত্যুর পরপরেই মামার বাড়িতে লালিত পালিত হয়েছে নুর হোসেন। অভাবের তাড়নায় বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেনি। শিশু কালেই জীবন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে । ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে, স্কুল ও কলেজে ঝাঁলমুড়ি বিক্রি করতেন নুর হোসেন।

আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে সুকানদিঘী বাজারে টিনের চালার নিচে ঝাঁলমুড়ি ব্যবসা শুরু করেন। সন্ধ্যা হলে ঝাঁলমুড়ি, ডিম ও চটপটি খেতে আসা ক্রেতাদের ধুম পড়ে। ঝাঁলমুড়ি, ডিম ও চটপটি বিক্রি করে তিনি আজ স্বাবলম্বী। চানাচুর ভাজা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষার তেল ও বুট দিয়ে অত্যন্ত মুখরোচকভাবে মুড়ি মাখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছেন। ঝাঁলমুড়ি পাশাপাশি ডিম চটপটি বিক্রি করে তিনি আজ স্বাবলম্বী।

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছেন। উপজেলার সুকানদিঘী বাজারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুস্বাদু ভাবে ঝাঁলমুড়ি, ডিম ও চটপটি বিক্রি করেন তিনি। নুর হোসেন দু’ সন্তানের জনক। দারিদ্রতার কারণে নিজে পড়াশোনা করতে না পারলেও সন্তানদের পড়াশোনা শিখিয়ে অনেক বড় করে তুলার স্বপ্ন দেখছেন।

নুর হোসেনের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা তার ঝাঁলমুড়ি, ডিম ও চটপটি খেতে ব্যস্ত। নুর হোসেন জানালেন, বাবা-মার মৃত্যুর পরপরেই বড় একা হয়ে যাই। অভাবী সংসার। কোনভাবে বড় হয়েছি। প্রথমে ৫শ’ টাকা নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেছি। এ ব্যবসা করে ৪ সদস্যের পরিবারের যাবতীয় খরচ এখান থেকে বহন করছি। তিনি বলেন, ব্যবসায় প্রতিদিন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে।

এতে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা আয় হয়। এই উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চলে। নুর হোসেন বলেন, আমার ঝাঁলমুড়ি, ডিম ওও চটপটি খেয়ে সবাই প্রশংসা করেন। নুর হোসেনের ঝাঁলমুড়ি প্রেমিক আসাদুজ্জামান আশা বলেন, নুর হোসেনের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবহার দেখে তার দোকানে ঝাঁলমুড়ি, ডিম ও চটপটি খেতে মানুষের ভিড় লেগে থাকে।

বাজারে এসে তার দোকানে না খেলে ভালো লাগে না। চলবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু জানান, নুর হোসেনের হাতে মাখা ঝাঁলমুড়ির, ডিম ও চটপটি কোন তুলনাই করা যায়না । যে একবার খাবে তাকে পুনরায় আসতে হবে তার দোকানে। নুর হোসেন দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তার একমাত্র স্বপ্ন। বর্তমানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য