Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
09 20 18

বৃহস্পতিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৯ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Home - রংপুর বিভাগ - ‘হামরা ঠান্ডাত মরি যাওছি’

‘হামরা ঠান্ডাত মরি যাওছি’

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ‘হামরা ঠান্ডায় মরি যাওছি, কিন্তু হামাক কায়ো দেখেছে না বাহে।’

App DinajpurNews Gif

এ ভাবে কথাগুলো বলছিলেন, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের গোপালরায় গ্রামের সুকানদিঘী গুচ্ছাগ্রামের বাসীন্ধার মহির উদ্দীন(৭৫)।

শুধু তিনিই নন, ঘন কুয়াশাসহ তীব্র শীত জেঁকে বসায় এ জেলার সর্বত্র শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকরা পড়েছে বেকায়দায়। কনকনে হাওয়া ও শৈত্যপ্রবাহে দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে এ জেলায়। সকাল থেকে সারা দিন প্রকৃতি ঢাকা থাকছে ঘন কুয়াশার চাদরে।

সরেজমিন, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষ কাজকর্ম না পেয়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। টানা দুই সপ্তাহের শৈত্য প্রবাহে তিস্তাপারের হতদরিদ্র মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায় নি। লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ কাজ কর্ম না পেয়ে পরিবারপরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তিস্তাপারের জনজীবন বিপর্ষস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি তীব্র শীতে ঘর থেকে বের হতে পারচ্ছে না তিস্তা পারের মানুষজন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা তারা।

এই শীতে সবচেয়ে বেশী কষ্টে আছেন বৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশুরা। রেল স্টেশনসহ জেলার বিভিন্নস্থানে অবস্থানকারী ছিন্নমুল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। শীতার্ত মানুষগুলো এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য তাকিয়ে আছেন বিত্তবান লোকদের দিকে। সন্ধ্যার পরপরই শহর ও গ্রামের হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। আদিতমারী উপজেলার বৃদ্ধা মমতা বেওয়া (৭০) বললেন, ‘কায়ো হামার পাকে ফিরে চায় না।

লন্ডা (পুরনো কাপড়) বাজারের কাপড়ও কিনিবার পারি না বাহে।’ হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তাপারের আকলিমা বেওয়া (৮০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়দিন ধরে ঠান্ডায় মুই বাঁচং না! এই ঠান্ডায় কেউ খোঁজ-খবর রাহে না। এহন পর্যন্ত কোন মেম্বার-চেয়ারম্যান মোক কম্বল দিল না বাহে! ভোট আসলে কি সুন্দর কথা কয়। বাহে মুই গরীব মানুষ। আমার সুখ-দুঃখের কথা কে শুনে?’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতবস্ত্রের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব শীতবস্ত্র এলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।

রংপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।