08 21 18

মঙ্গলবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

Home - দিনাজপুর - নবাবগঞ্জে ফসলি জমি সহ বন এলাকায় ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর উৎসব

নবাবগঞ্জে ফসলি জমি সহ বন এলাকায় ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর উৎসব

ফাইল ফটো

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা এলকায় ৩ ফসলি কৃষি জমিতে ও বন এলাকায় ইট ভাঁটা স্থাপনের পর সেগুলোতে ইট পোড়ানোর উৎসব শুরু হলেও তা দেখার কেউ নাই । প্রতি বছরই কোন না কোন জায়গায় একের পর এক ওই সব ভাঁটা স্থাপন করা হয়েছে। এবারেও স্থাপন করা হয়েছে।

প্রশাসনের নাকের ডগার উপরে ওই সব ভাটায় ইট পোড়ানোর মহোৎসব চললেও রহস্য জনক কারণে প্রশাসন নিরব ভ’মিকা পালন করে আসছেন। ইট প্রস্তুত ও ভাঁটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ মোতাবেক বছরে একাধিক কৃষি পণ্য উৎপাদন হয় এমন জমি, বন বিভাগের ২ কিঃ মিটার দুরত্বের ভিতরে, গ্রামীন সড়কের অর্ধ কিঃ মিঃ মিটার দুরত্বের ভিতরে ও আবাসিক এলাকায় ইট ভাঁটা স্থাপন করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও এই উপজেলায় সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে সরকারী বন এলাকার ভিতরে, ফসলী জমির উপরে, রাস্তার ধারে ও আবাসিক এলাকায় ইট ভাঁটা গুলি স্থাপন করা হয়েছে।

শুধু ভাঁটা স্থাপনেই শেষ নয় সেগুলোতে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করে তা টাষ্ট্রক্টরে বহন করে ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও সেটি আইন বহির্ভূত। বন বিভাগ দিনাজপুরের চরকাই রেঞ্জের আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বিট এলাকায় সরকারী নীতিমালা ভঙ্গ করে বেশ কয়েকটি ইট ভাঁটা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানোও হচ্ছে।

হরিপুর মৌজায় আর এম এ নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। ওই ভাটার মধ্যে দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা। বন বিভাগের হরিপুর বিটের অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন আইনের অনুসন্ধানী দলের সদস্য নিশি কান্ত মালাকারের সাথে বনের ভিতরে ইট ভাঁটা স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান।

এসব ইট ভাটার কারণে যেমন পরিবেশ দুষন হচ্ছে তেমনি ফল, ফসল ও বনেরও ক্ষতি সাধন হচ্ছে। গত মৌসুমে ইট ভাঁটা থেকে নির্গত দোষিত গ্যাসে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছিল উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের মালারপাড়া গ্রামের প্রায় ৮০ টি পরিবার। তাদের ক্ষতি হওয়া ফলের মধ্যে ছিল আম, কাাঁঠাল, জলপাই, মিষ্টি আমড়া,সুপারী, খেজুর, লিচু ও বোরো ফসল।

গ্রাম সংলগ্ন কৃষি জমিতে স্থাপন করা এ বি এম নামে একটি ইট ভাঁটা থেকে নির্গত দোষিত গ্যাসের কারণে তারা ফল ফসলের ক্ষতির শিকার হয়েছিল। ওই গ্রামের আঃ রহিম, আঃ গোফ্ফার, বজলুর রশিদ, বুলি বেগম ও মোজাম্মেল হক সহ গ্রামবাসী অনেকেই তাদের ক্ষতির বর্ননা দিয়েছিলেন। সূত্রমতে উপজেলা এলাকায় প্রায় ৩৩ টি ইটভাটা রয়েছে যে গুলি ইট ভাঁটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো(নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ মোতাবেক একটি ভাটাও স্থাপন যোগ্য নয়।