11 16 18

শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - খানাসামায় বাঁশের সাঁকোই এখন ৫০ হাজার মানুষের ভরসা

খানাসামায় বাঁশের সাঁকোই এখন ৫০ হাজার মানুষের ভরসা

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের বটতলী সাঁকোর পাড় দিয়ে দ্রুততম সময়ে নীলফামারী ও দিনাজপুরের মধ্যে যাতায়াত করা যায়।

App DinajpurNews Gif

এলাকাবাসী জানায়, বিশেষ করে খানাসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ও ভাবকি ইউনিয়নের এবং নীলফামারী সদরের পশ্চিম এলাকার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে । কিন্তু সড়কের মাঝে ইছামতি নদীতে এখন পর্যন্ত একটি সেতু নির্মিত না হওয়ায় প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোয়ালডিহি ইউনিয়নের বটতলী সাঁকোর পাড়ে নদীর উপর একটি ভাঙাচোড়া বাঁশের সাঁকো। প্রায় ২১০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১০ ফুট প্রস্তের সেই সাঁকোর উপর দিয়ে ঝুঁকি পূর্ণ ভাবে লোকজন যাতায়াত করছে।

মোটরসাইকেল এবং ভ্যানের চালক ও যাত্রীরা নেমে ঠেলে সাাঁকো পার যানবাহন পার করছেন। ভ্যানে করে নিয়ে আসা মালামাল সাঁকোর এক পার্শ্বে রেখে নামিয়ে সেসব মালামাল মাথায় ও পিঠে করে সাঁকোর অপর পাড়ে নিয়ে পুনরায় ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনে তুলছেন।

এলাকাবাসী জানান, নদীর পূর্ব দিকে গোয়ালডিহি ইউনিয়নের পূর্ব দুবলিয়া, নলবাড়ি এবং নীলফামারাী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা। পশ্বিম পার্শ্বে গোয়ালডিহি ইউনিয়নের গোয়ালডিহি, হাশিমপুর, ভাবকি ইউনিয়নের মারগাঁও, কুমুড়িয়া, চিরিরবন্দরের নশরতপুর, রাণীবন্দর। বিকল্প এ পথে সময় কম লাগায় বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

ভ্যান চালক নুর আলম বলেন, “ ব্রীজ না থাকায় মাল নিয়ে ভ্যান সাঁকোত তোলা যায়না। তুললে ভেঙ্গে পড়ে।

দুবলিয়া গ্রামের মুদি দোকনদার সাইফুল ইসলাম জানান, নদীতে সেতু না থাকায় তাঁদের ব্যবসার মালামাল সরাসরি নিয়ে আসা যায়না। এতে পরিবহন খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি ভোগান্তিও চরম।

নলবাড়ি গ্রামের শিক্ষক মুক্তার হোসেন জানান, বর্ষার সময় এ সেতুটি থাকেনা। তখন লোকজনকে প্রায় বিশ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।

সাঁকোর পশ্চিম পাড়েই অবস্থিত আকবর আলী শাহ আলীম মাদ্রাসা। সেই মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, নদীর পূর্ব দিকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর পূর্ব দিকে। তাই নদীর পূর্ব দিকের গ্রামের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়।

গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইনুল হক শাহ্ জানান, গোয়ালডিহি, ভাবকি ইউনিয়নসহ দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রায় বিশ হাজার শ্রমিক নীলফামারী ইপিজেড এবং সৈয়দপুর রেল কারখানায় কাজ করে। ওইসব শ্রমিকরা এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। কিন্তু বটতলীর সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় বিশেষ করে বর্ষকালে লোকজনকে চরম ভোগন্তি পোহাতে হয়। বছরে দু’বার ইউনিয়ন পরিষদের টাকায় সাঁকোটি মেরামত করতে হয়। এতে বড় ধরনের ব্যয় হয়। বটতলীতে সেতু নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করেই চলেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী সুবীর কুমার সরকার গতকাল মঙ্গলবার জানান, দুই মাস আগে বটতলীতে ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য