10 22 18

সোমবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

Home - আন্তর্জাতিক - সামরিক বরাদ্দ বাড়িয়ে ট্রাম্পের খসড়া বাজেট পেশ

সামরিক বরাদ্দ বাড়িয়ে ট্রাম্পের খসড়া বাজেট পেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের খসড়া বাজেট প্রস্তাব পাঠিয়েছেন কংগ্রেসের কাছে। গত বছর তার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৪.১৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে কংগ্রেসে সেই বাজেট পাস হয়নি। সাময়িক সমঝোতার মধ্য দিয়েই অর্থবছরটি পার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

App DinajpurNews Gif

গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ধারণার সমর্থনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বাজেট প্রস্তাব করেছেন। সামাজিক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে সামরিক খাত স্ফীত করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের জন্যও বরাদ্দ চেয়েছেন তিনি। অর্থনীতি ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় ঘাটতির এই খসড়া বাজেট প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা এই বাজেট প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে সামরিক খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি। এছাড়া এ প্রস্তাবে বাজেট ঘাটতির পরিমাণও অনেক বেশি। ঘাটতি বাজেটের এই প্রস্তাব রিপাবলিকানদের ভারসাম্যপূর্ণ বাজেটের নীতি থেকে বেশ দূরে। ট্রাম্পের প্রস্তাব করা খসড়া বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ৯৮৪ বিলিয়ন ডলার। ব্যবসায়ী ট্রাম্প একবার নিজেকে ‘ঋণের রাজা’ আখ্যায়িত করেছিলেন। তার ঘাটতি বাজেট দেখে মনে করা হচ্ছে, তিনি আবারও ওই আখ্যা পাবেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামরিক খাতের বরাদ্দ এতোটাই বাড়ানো হয়েছে যে, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো খাতগুলোর বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার পরও এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি থেকে গেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা খাতে ১.৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চালু থাকা ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন এসিস্টেন্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) এই নিম্ন বরাদ্দে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খসড়া বাজেটের প্রস্তাব অনুযায়ী, খাদ্য সহায়তা পেতে হলে শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাজ করতে হবে। এমন কি খাদ্য সহায়তা হিসেব দেওয়া কুপন মুদি দোকানে ব্যবহার করে খাবার কেনার যে প্রক্রিয়া চালু আছে, তাও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে খসড়া বাজেটে। খসড়া বাজেটে কুপনের কিছু অংশ কমিয়ে দিয়ে তার বদলে এক বাক্স ‘শতভাগ আমেরিকায় তৈরী খাবার’ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গৃহায়ণ ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য করা খসড়া বাজেটে খরচ কমাবার জন্য বলা হয়েছে, যারা সরকারি ভর্তুকিতে বাসস্থান পান, তাদেরকে নির্ধারিত নূন্যতম সময় কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ কমাতে প্রস্তব করা হয়েছে ট্রাম্পের খসড়া বাজেটে। দেশজ খাতে কংগ্রেস যে পরিমাণ বরাদ্দ দিতে চায়, তা দিলে ঘাটতি বাড়বে। তাই ১১ বিলিয়ন ডলার এমন ভাবে বরাদ্দ করা হবে যাতে করে চিকিৎসা সেবা আগের মতো থাকবে না, কমে যাবে স্থায়ী সেবাগুলোর জন্য বরাদ্দ। চিকিৎসা খাতের বরাদ্দ এতটাই কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা পাস হলে প্রকৃত বরাদ্দ ওবামা-কেয়ারের আগে যত কম বরাদ্দ ছিল প্রায় তার সমান হয়ে যাবে।

খসড়া বাজেটের কেন্দ্রে রয়েছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো উন্নয়ন বরাদ্দ, যা পরবর্তী দশক জুড়ে বাস্তবায়ন হবে। ২০১৯ সালের জন্য এ খাতে ৪৪.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও কংগ্রেস সদস্যরা ২০০ বিলিয়ন ডলারকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম বলে মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য ৪৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এটি ৩.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি। এছাড়াও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য চাওয়া হয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর ভেতরে মেক্সিকো সীমান্তে ৬৫ মাইল দীর্ঘ দেওয়াল নির্মাণের জন্য ১.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এবার ২.৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করার প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প। এই বরাদ্দ আগের চেয়ে ৩৪ শতাংশ কম। এতে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রায় সব প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্যও বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিয়ে ৪৮৯ মিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ করার প্রস্তাব করা হয়েছে ওই খাতের জন্য।

তবে ট্রাম্পের খসড়া বাজেটে বরাদ্দ কর্তন ও বৃদ্ধির এই সব প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বাজেট পাসের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট নন, কংগ্রেসই মূল ক্ষমতার অধিকারী। আর গত সপ্তাহে কংগ্রেসের সাথে ট্রাম্পের দেশজ ও প্রতিরক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে যে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে তাতে খসড়া বাজেটের প্রস্তাব খুব একটা হালে পানি পাবে না।

নর্থ ডাকোটা থেকে নির্বাচিত সংগ্রেস সদস্য রিপাবলিকান কেভিন ক্র্যামার ‘শস্য বীমা’ খাতের বরাদ্দ অনেক বেশি কাট-ছাট করায় অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। কংগ্রেস সদস্য এড রয়েস মনে করেন স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র খাতে যেভাবে বরাদ্দ কমাবার প্রস্তাব করা হয়েছে তা রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট কেউই ভালোভাবে নেবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য