08 17 18

শুক্রবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ২রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

Home - জেনে রাখুন - মৌসুমি থেকে সাবধান

মৌসুমি থেকে সাবধান

শীত শেষে গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসছে। এই সময়টায় শরীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিতে। তাই থাকতে হবে সাবধান।

এই মৌসুমি রোগবালাই সম্পর্কে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিভাগের পরামর্শদাতা ডা. কামরুল হাসান (বিসিএস স্বাস্থ্য)।

লক্ষণ: ঋতু পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীর ব্যথা ইত্যাদিকেই মৌসুমি জ্বর ধরা হয়। হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে থাকা, সারা শরীরে ব্যথা, মাথা ভার হয়ে থাকা, খাওয়ায় অরুচি, মুখে তিতাভাব ইত্যাদি ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ।

পুরো শীতকাল ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় ঘরে মশার উপদ্রব তুলনামূলক কমে যায়। তবে গরম পড়লেই তা আবার শুরু হবে। সেই সঙ্গে বাড়াবে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর প্রকোপ। গতবছর দেশে চিকুনগুনিয়া’র প্রকোপ ছড়িয়েছে ব্যাপক হারে। তাই সাবধানতা চাই এবছরেও।

হাড়ের জোড়ে অসহ্য ব্যথা চিকুনগুনিয়া’র বিশেষ উপসর্গ।

সতর্কতা: দিনের বেলা শীতের পোশাক পরলে গরম লাগে, আবার ভোর ও রাতে হালকা শীত অনুভুত হয়। ফলে অফিসে যাওয়ার সময় যারা শীতের কাপড় পরছেন না, রাতে বাসায় ফেরার পথে তাদের ঠাণ্ডা লাগছে, আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি-কাশিতে।

তাই ব্যাগে সবসময় শীতের কাপড় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ঠাণ্ডা বাতাসে সংস্পর্শে আসলে ঘরে ফিরে আদা, লেবু দিয়ে লাল চা, গরম দুধ, সুপ ইত্যাদি খেলে ভালো লাগবে।

মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশার কয়েল, অ্যারোসল, মশারি, ধুপ, ওডোমস ইত্যাদি নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। আর দিনের বেলায় সাবধানতাটা বেশি প্রয়োজন। কারণ ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া’র জন্য দায়ী এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়।

ঘরে মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত রোগী থাকলে তাকে ভিন্ন ঘরে রেখে পরিচর্যা করা উচিত। মৌসুমি জ্বর ছোঁয়াচে নয়, তবে রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। মশার ব্যাপারেও এসময় চাই বাড়তি সতর্কতা।

আক্রান্ত হলে করণীয়: বিভিন্ন ধরনের জ্বর কমানোর ওষুধ রয়েছে। আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর কমানোর ওষুধ খেতে হবে। মনে রাখা উচিত, ওষুধ যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

অনেকে সাত দিনের বেশি জ্বর থাকলে কিংবা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রির মতো জ্বর হলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দেন। যা প্রয়োজনীয় নয়, বরং হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ধরনের ওষুধ খাওয়া যাবে না।

রোগীর মাথায় পানি ঢালা এবং কপালে জলপট্টি দেওয়া উপকারী। প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যালাইন, ফলের সরবত ইত্যাদি পান করতে হবে।

জ্বর সারাতে ভিটামিন-সি আছে এমন ফল যেমন- আনারস, জাম্বুরা, কমলা, আমড়া, লেবু ইত্যাদি অত্যন্ত উপকারী।

জ্বরে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, শুধুই ভাইরাস জ্বর, নাকি তা টাইফয়েড, জন্ডিস, নিউমোনিয়ার ইত্যাদির দিকে মোড় নিচ্ছে।