12 16 18

রবিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - সুপ্রীম কোর্টের স্থিতিতাদেশের অমান্য করে অবৈধপন্থায় চিরিরবন্দর পল্লী বিদুৎ সমিতি

সুপ্রীম কোর্টের স্থিতিতাদেশের অমান্য করে অবৈধপন্থায় চিরিরবন্দর পল্লী বিদুৎ সমিতি

সংবাদ সম্মেলনঃ সুপ্রীম কোর্টের স্থিতিতাদেশের অমান্য করে অবৈধপন্থায় চিরিরবন্দর পল্লী বিদুৎ সমিতির বিএমডিএ ইউনিট-২’র সেচ প্রকল্পের সুবিধাভোগ করছে শাহ মতিয়ার রহমান চৌধুরী। এই সুবিধাভোগের জন্যে মতিয়ার রহমান সমিতির অসৎ কর্মর্তাদের বিপুল পরিমান আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

App DinajpurNews Gif

মঙ্গলবার দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেছেন চিরিরবন্দও উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র মোঃ আমীর খোসরু। তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেছেন, ১৯৯৪ সালে ভিয়াইল হালকা সেচ প্রকল্পটি ক্রেতা-বিক্রেতা চুক্তি অনুযায়ী অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি সাপেক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালনার দায়িত্ব পান তার বাবা উক্ত ইউনিয়নের মোঃ আব্দুল খালেক, পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে আব্দুল খালেক’র মৃত্যুর পর তার ১ম পুত্র মোঃ আমীর খসরু সেচ প্রকল্পটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

তিনি জানান,প্রকল্পটির মালিকানা নিয়ে শাহ মতিয়ারের সাথে বিরোধ হয় এবং তা পরবর্তীতে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। স্থানীয় আদালতের বিভিন্ন রায় পল্লী বিদুৎ সমিতি দিনাজপুর-১ ও শাহ্ মতিয়ার রহমান’র বিরুদ্ধে যায়। একপর্যায়ে মামলাটি মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট খারিজ করে দেন। ফলে ১ ফেব্রয়ারী ২০১৮ তারিখে মোঃ আমীর খসরু তার অনুকলে ওই প্রকল্পের সেচ লাইন(মিটার নং ১৬২,হিসাব নং ১৫৫০) পুনঃস্থাপনের জন্যে পল্লী সমিতিতে আবেদন করেন।

কিন্তু পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ পত্রের মাধ্যমে(স্মারক নং ২৭,১২,২৭৬৪,৫১৯,০১,২১২,১৮,৫২৮) জানিয়ে দেয় বাদী ও বিবাদীকে সেচ সংযোগ করা যাবেনা। তবে মামলার প্রধান বাদী শাহ মতিয়ার রহমান চৌধুরীকে সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক স্থিতিতাদেশ থাকার পরেও সেচ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে,যা সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের সামিল।

গত ১৪ জানুয়ারী এবং ২১ জানুয়ারী ২০১৮ পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ কে পত্র মারফত অবগত করালেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,যেহেতু পল্লী বিদুৎ এর অসাদু কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে শাহ্ মতিয়ার রহমানকে এই সংযোগ প্রদান করেছেন তাই আবেদন নিবেদন কোনটাই তারা কর্ণপাত করছেন না। একই ভাবে তারা আমীর খসরু’র সেচ পুনঃসংযোগের আবেদন পত্রের প্রতি উত্তরে যে পত্র দিয়েছেন তাতেও তারিখের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

শাহ্ মতিয়ার রহমান চৌধুরী সেচ প্রকল্পে বৈদুৎতিক সংযোগ ও নালা ব্যবহারের কোন লাইসেন্স জমা না দেয়ায় চিরিরবন্দর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রব্বানী পল্লী বিদুৎ সমিতি সাব জোনাল অফিস চিরিরবন্দকে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহনে নির্দেশ প্রদান করে পত্র প্রেরন করেছেন অথচ এখন পর্যন্ত পল্লী বিদুৎ সমিতি চিরিরবন্দর কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।

আমীর খসরু দাবী করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সেচ প্রকল্পের একমাত্র হকদার হচ্ছেন মৃতঃ আব্দুল খালেকের ওয়ারিশগন অথচ অর্থের বিনিময়ে তা ভোগ করছে অন্যরা। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা নিয়মমাফিক সেচ প্রকল্পের সুবিধা তাদের অনুকলে প্রদান এবং অবৈধ পন্থা অবলম্বনের দায়ে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবী করেন । সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,সারোয়ার জাহান,মোঃ ফারুক এ আজম এবং আরিফুল ইসলাম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য