07 21 18

শনিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৮ ইং | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী

Home - দিনাজপুর - বিরলে ইউপি সদস্য স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক গৃহবধূ

বিরলে ইউপি সদস্য স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক গৃহবধূ

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরলে ইউপি সদস্য স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে বিরল সদর ইউপি’র পুরিয়া গ্রামে।

জানাগেছে, গত শনিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে বিরল সদর ইউপি’র ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আলতাব হোসেনের নিজ বাড়ী পুরিয়া গ্রামের শয়ন ঘরে মোবাইল ফোন নিয়ে আড়াই বছর বয়সী শিশু কন্যা অনামিকা খেলা করা সময় মোবাইল ফোনে থাকা অন্য মেয়ের সাথে ফোনালাপের কুরুচিপূর্ন অশ্লীল রেকর্ড বাজতে শুরু করে।

এসময় স্ত্রী সুলতানা বেগম (২৮) স্বামী আলতাবের নিকট এব্যাপারে জানতে চাইলে আলতাব ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে সুলতানাকে অমানুষিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে।

গৃহবধূ সুলতানার আত্মচিৎকারে পাশের বাড়ীর লোকজনসহ গ্রামবাসী ছুটে এসে দরজা ভেঙ্গে সুলতানা কে গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে রাতে আলতাবের বড় ভাই আনারুল ইসলাম গৃহবধূ সুলতানাকে তার বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে রাখে। পরদিন রোববার খবর পেয়ে সুলতানার পালিত মা (ফুফু) জাহেদা খাতুন সুলতানাকে উদ্ধার করে দুপুরে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত গৃহবধূ সুলতানা জানান, আমার স্বামী আলতাবের আগের স্ত্রী ছিল। সেই স্ত্রী নিজে তালাক দিয়ে তার সংসার ত্যাগ করে চলে যাবার কয়েক বছর পর প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে প্রস্তাবের মাধ্যমে তার সাথে আমার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে আমাদের একটি কন্যা সন্তান অনামিকার জন্ম হয়। তার বয়স বর্তমানে আড়াই বছর।

বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি আমার স্বামী আলতাব একজন নারী পিপাসু। বিভিন্ন মেয়ের সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক আছে। আমাকে অকারনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে সে নির্যাতন করে আসছে। আমি প্রতিবাদ করলে সে হুমকি দিয়ে বলে আমি ইউপি সদস্য আমার কেউ কোন কিছু করতে পারবেনা।

ঘটনার সময় তার অন্য নারীর সাথে অশ্লীল ফোনালাপের সূত্র ধরে সে ঘরের দরজা আটকিয়ে আমাকে ইউক্লিপটাস গাছের ডাল দিয়ে শিশু কন্যা অনামিকার সামনে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে অমানুষিক ভাবে নির্যাতন করে।

এসময় শিশু কন্যা অনামিকার কান্না এবং আমার আকুতি শুনে গ্রামের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে শিশুকন্যা সহ আমাকে উদ্ধার করে। তা-না হলে সে আমাকে মেরে ফেলতো। আমি হাসপাতালে থাকলেও সে আমার চিকিৎসার কোন প্রকার খোঁজ খবর নেয়নি।

বিরল পৌর শহরের বর্ম্ম্রপুর মহল্লার আহত সুলতানার পালিত মা (ফুফু) জাহেদা খাতুন জানান, আলতাবের বড় স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার কিছুদিন পর সে আমার মেয়ে সুলতানাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ে করে। সে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে যে ভাবে স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমি বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। আমরা তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো। আগে আহত সুলতানা একটু সুস্থ্য হয়ে উঠুক।

বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: সিয়াম আহমেদ অপু বলেন, আহত সুলতানাকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। তার বাম হাতের কুনুইয়ের এক্স-রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে আহত গৃহবধু সুলতানার স্বামী বিরল সদর ইউ,পি’র ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আলতাব হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার আগের স্ত্রীর গর্ভের ১ ছেলে রিয়াদ হাসান ও ১ মেয়ে আজমিরা আক্তার মোনালিসা (৮) ২ ছেলে-মেয়ে আছে। তারা ২ জনেই মায়ের সাথে নানার বাড়ী থেকে পড়া-লেখা করে। তারা কোন কারণে আমার বাড়ীতে আসলে আমার বর্তমান স্ত্রী সুলতানা তাদের মেনে নিতে পারেনা।
তাদের সাথে খারাব ব্যবহার করে। মোবাইলে রেকর্ড ফোনালাপের সূত্র ধরে ঘটনার সুত্রপাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তাকে বলি আমি ইউপি সদস্য বিভিন্ন জনেই আমার সাথে কথা বলে। আমি অনেকেরই কথা রেকর্ড করে রাখি। তুমি আমার ফোন কখনই ধরবে না। তার পরেও সে আমার রেকর্ডিও ফোনালাপ শুনতে থাকে। ফলে তাকে আমি হালকা ভাবে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ২টি আঘাত করেছি।

এব্যাপারে আমার বিরুদ্ধে সে ব্যবস্থা নিলেও নিতে পারে। এতে আমার আপত্তি নেই। হাসপাতালে কেন সুলতানাকে দেখতে জাননি জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি দেখতে গেলে সে সহ আমার শ্বশুর (পালিত) বাড়ীর লোকজন আমাকে সবার সামনে অপমান করতে পারে ভেবে যাওয়া হয়নি।