08 21 18

মঙ্গলবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৬ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী

Home - দিনাজপুর - শ্রমিক ধর্মঘটের ৪র্থ দিন অচল অবস্থা কাটেনি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি

শ্রমিক ধর্মঘটের ৪র্থ দিন অচল অবস্থা কাটেনি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ধর্মঘটের ৪র্থ দিনেও অচর অবস্থা কাটেনি খনিটিতে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কর্মকর্তাদের সংর্ঘষ হওয়ার পর, আজ বুধবার শ্রমিকদের উপস্থিতি আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে খনির সাভাবিক কার্য্যক্রম বন্ধহয়ে পড়েফে।

শ্রমিক ধর্মঘটের কারনে খনির সদর দপ্তরের ভিতরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী স্কুল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্থায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রশাসনের সমজোতা বৈঠকটি অমিমাংশিত অবস্থায় ভেঙ্গে যাওয়ায়, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন শ্রমিকরা।

এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায়, খনির সদর দপ্তরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসকরা, দেশী-বিদেশী ৫শ জন খনির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা, খনির সদর দপ্তরে আটকে পড়েছেন। তারা কেউ সেখান থেকে বাহির হতে না পারায়, ওই পরিবার গুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ খাদ্য ও শিশু খাদ্যের অভাব। এতেকরে মানবীক বিপর্য্যয় দেখা দিয়েছে, খনির সদর দপ্তরে বসবাসকরা পরিবার গুলোতে।

খনির সদর দপ্তরের ভিতরে বসবাস করা গাড়ী চালক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন বাড়ীতে বাজার নাই, শিশুদের খাদ্যও নাই, একদিন পরে রমজান মাস শুরু হচ্ছে, অথচ বাজার করা তো দুরের কথা বাড়ী থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এখই কথা বলেন খনির সদর দপ্তরে বসবাসকরা ম্যানেজার প্রশাসন সৈয়দ হাছান ইমামসহ অনান্য কর্মকর্তারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অপরদিকে গতাল মঙ্গলবার কর্মকর্তাদের সাথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংঘর্ষের কারনে আহত অনেক কর্মকর্তার অবস্থা অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন। তিনি বলেন শ্রমিকরা আন্দোলনের নামে, খনিতে কর্মরত ৩১০ জন বিদেশী নাগরী ও ২শ জন বাংলাদেশী কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। খনির সদর দপ্তরের মধ্যে বসবাসকরা কর্মকর্তা কর্মচারীদের পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ খাদ্যর অভাব, অনেকে শিশু বাচ্চা রয়েছে, সেই শিশুদের খাদ্যও সংখট হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় খনি অভ্যান্তরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে প্রশাসনের একটি সমজোতা বৈটক অনুষ্ঠিত হয়, সমজোতা বৈঠকটি অমিমাংশিত অবস্থায় শেষ হয। ফরে আন্দোলনরত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন। সমজোতা বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অনান্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেদুল ইসলাম, পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান। শ্রমিকদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবীউল ইসলাম রবী, সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, সাবেক সাধারন সম্পাদক নুর ইসলাম, ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন মশিউর রহমান বুলবুর ও মিজানুর রহমান।

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবীউল ইসলাম রবী বলেন শ্রমিকরা এক দিনেও আন্দোলন করতে চায় না, কিন্তু আমাদের ন্যায্য অধিকার পুরন করার জন্য দির্ঘ ৯ মাস থেকে শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে, কিন্তু তারা শ্রমিকদের দাবী পুরন করেনি তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে। দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে তিনি বলেন।

উল্লেখ্য গত ১৩ মে রবিবার থেকে ১৩ দফা দাবীতে শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসুচ পালন করে আসছে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমি কর্মচারী ইউনিয়ন ও খনির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা। শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের আন্দোলনের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, খনির কার্য্যক্রমসহ খনির কর্মকর্তা-কমৃচারীরা।